Here is real truth, please read it carefully:
সাকিবকে নিষিদ্ধের ঘটনা তাহলে এই!
কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে খেলোয়াড় আচরণবিধির কোন ধারা লঙ্ঘনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাক বা না যাক, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যে চুক্তি রয়েছে তা ভঙ্গের অভিযোগ তুলেই যে কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বিসিবি যা খুশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
যদিও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও ‘ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী’ হয়ে কারো প্রতি আচরণ ও অন্যায় সিদ্ধান্ত করতে সংবিধানে পষ্ট বাধা রয়েছে।
কিন্তু বিসিবির পরিচালকরা যদি ক্রিকেটের স্বার্থের বদলে কোনো খেলোয়াড়ের প্রতি নিজেদের ব্যক্তি ও শ্রেণীগত ক্রোধ চরিতার্থ করতে চান, তাতেও কোন আইনগত বাধা নেই।
বিসিবির এই দায়হীন আইনী সুবিধার অপব্যবহারের বিষয়টির ব্যাপারে গণনজরদারি করার তাগিদ তৈরি হল গত সোমবার।
এ দিন বিশ্বসেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের জন্যে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
তারা বলল, ‘২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি কোনো লীগে খেলার জন্যও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে না তাকে। এখন থেকে বিজ্ঞাপনের শুটিংসহ যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হলে বিসিবির অনুমতি নিতে হবে’।
শৃঙ্খলটা জোরদার করার পর বিসিবি আরেকটু আগ বাড়াল, ‘ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের পুনরাবৃত্তি হলে আজীবন নিষিদ্ধ করা হবে’।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব আগামী আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং অক্টোবরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজও খেলতে পারবেন না।
সোমবার যখন সাকিবের বিরুদ্ধে এসব শাস্তির ঘোষণা দিচ্ছিলেন বিসিবি সভাপতি ও সরকারদলীয় সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন, তখন বিস্ময়কর ব্যাপারগুলো দৃশ্যমান হলো।
পাপন অসৌজন্যমূলক তুইতোকারির সম্বোধন করে সাকিবকে বারবার ‘ও’ ‘ও’ বলছিলেন। তার কণ্ঠ থেকে যেন ক্রোধ ঝরে পড়ছিল। দেহভঙ্গিতে ছিল প্রতিশোধ চরিতার্থ করার আত্মতৃপ্তি।
তবে পাপন গোলমাল পাকিয়েছেন সাকিবকে নিষিদ্ধ করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে।
তিনি বললেন, ‘ওর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো শুনেছি...কতগুলো…এত অমানবিক মনে হয়েছে যে আমরা অনেকে ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। কীভাবে একটা মানুষ এমন করতে পারে!’
সাকিব এমন কি অমানবিক কাজ করেছেন যা পাপনদের এত ইমোশনাল করে ফেলল, আর তিনি ক্রিকেটের মধ্যে ঢালিউডের ডায়লগ চালান করে দিলেন-‘আর বাড়তে দেওয়া যাবে না’?
কোথাও কি বাড়াবাড়ি করেছেন সাকিব, যেন তাকে বাড়তে না দেয়ার প্রশ্ন আসল?
ঘটনার নেপথ্যে আসলেই ঘটনা থাকে। বলব না বলব না করেও যা চেপে রাখেননি পাপন। তিনি ঠিকই বললেন, গত ১৫ জুন ইনডিয়া ও বাংলাদেশের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের খেলা দেখতে গিয়ে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরকে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে তার খণ্ডাংশ।
ওই দিন ভিআইপি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখতে আসা চার জন তরুণ সাকিবের স্ত্রীকে ইভটিজিং করে। নিপীড়নের ঘটনা জেনে বউকে হেফাজত করতে ছুটে যান সাকিব। এক অপরাধীকে ঘটনাস্থলেই কিল-ঘুষি দেন তিনি। এ ঘটনায় চার অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলাও করেন অলরাউন্ডার সকিব।
খেয়াল করার বিষয় হল, পাপন এ ঘটনার প্রেক্ষাপটকে আমলে নেননি। বিসিবি প্রধান হলেও তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের স্ত্রীর নিপীড়িত হওয়াকে পাত্তাই দিলেন না। বরং ‘একটি ছেলে’ জঘন্য ইভটিজারের অপরাধ চেপে রাখতে চাইলেন।
এই ‘একটি ছেলে’র নিপীড়ন থেকে স্ত্রীকে হেফাজত করতে ড্রেসিং রুম ছেড়ে ভিআইপি গ্যালারিতে যাওয়া নাকি পাপনের চোখে ‘ধৃষ্টতা’! আর এই ধৃষ্টতাকে ‘আর প্রশ্রয় দেওয়া যায় না’ বলে বিসিবি প্রধানের সে কি দৃঢ়তা!
প্রশ্ন জাগে একজন ইভটিজারকে শায়েস্তা করে কেন সাকিবের ধৃষ্টতা হয়ে যাবে?
এটা খুবই শঙ্কার ব্যাপার যে সাকিবের উপর বিসিবির যা কিছু খড়গ হস্ত হওয়া তার মূলে রয়েছে এই ঘটনাটি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাকিবের স্ত্রীকে নিপীড়ন করার সাথে জড়িত চার তরুণই কথিত অভিজাত পরিবারের সদস্য। তাদের একজন রাহিদ রহমানকে (২৩) গত ১৮ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ১০ নম্বর রোডের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া তরুণ ইভটিজিংয়ের মত ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হলেও তিনি অভিজাত পরিবারের সন্তান। তার বাবা দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বজলুর রহমান।
এছাড়া অন্য তিন জন ইভটিজারও অভিজাত পরিবারেরই সন্তান। তাদের একজন হলেন চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় এক সাংসদের ছেলে।
ঘটনাচক্রে এই অভিজাত টিজারদের একজনের বাবা বিসিবি প্রধান পাপনের বন্ধু। পাপন যেই ক্লাবের হয়ে ক্রীড়া সংগঠক পরিচয়ে বিসিবির সভাপতি হয়েছেন, ইভটিজারের বাবা আবার সেই ক্লাবের একজন পরিচালক।
ফলে এটিই হয়তো অভিজাত ন্যায় নীতি যে সাকিব তার স্ত্রীকে নিপীড়নের প্রতিকার চেয়ে মামলা করলেও তাকে সেই মামলা তুলে আপোষ করতে হবে। এজন্য সাকিবকে প্রচণ্ড চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিশ্বের খ্যাতিমান ক্রিকেটার হয়েও স্ত্রীর নিপীড়িত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিসিবিকে পাশে পাননি। বরং বিসিবির পক্ষপাত ছিল ইভটিজারদের পক্ষে। এই পক্ষপাতের কারণেই জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম হোটেলে গিয়ে ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সাকিবকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে পেরেছেন।
অবশ্য সাকিব অপরাধীদের চাপ সত্ত্বেও মামলা চালানোর ব্যাপারে অটল থাকেন। এতে তিনি বিসিবির চাপের মুখে পড়েন, পাশে দাঁড়ানোর বদলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে শাস্তি দেয়ার পায়তারা করে বিসিবি।
তবে বাংলাদেশের অভিজাতরা যতখানি অভিজাত হোন না কেন সাকিবকে দেখে নেয়াটা তাদের জন্য রিক্সাঅলাদের চড় মারার মত সহজ ব্যাপার নয় কখনোই। সাকিব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমীর অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে তার প্রতি।
গুরুত্বপূর্ণ হল ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সাকিব আল হাসানকে বিশেষ পছন্দ করেন। তার খেলার মুগ্ধ সমর্থক তিনি। তাই সাকিবের জ্বর হলেও তাকে হাসপাতালে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী।
ফলে সাকিবকে শিকার করতে দরকার ছিল চক্রান্তের। যেই চক্রান্ত সামনে রাখলে ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে তার ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ করা যায়।
চক্রান্তের ধাপগুলো দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না সাকিব বিরোধীরা কত গভীর পানির রুই-কাতলা। প্রথমে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল) খেলতে যাওয়া নিয়ে ফাঁদ পাতা হল, তারপর অসত্য প্রচারণা চালিয়ে প্রথমে তার প্রতি জনমতের একাংশকে বিগড়ে দেয়া হল।
ব্যস, হয়ে গেল। সাকিব বধের যজ্ঞ প্রস্তুত করতে আর কোন অসুবিধা থাকল না ইভটিজার অভিজাতদের সমর্থক বিসিবির অভিজাতদের।
কিন্তু যজ্ঞে সাকিব বধ শেষে পাপন কিছুই আর লুকিয়ে রাখলেন না। সাকিবের ‘ধৃষ্টতা’র কথা তুলে ধরে তিনি ক্রোধ প্রকাশ করলেন। প্রতিশোধ নিতে পারায় দেহভঙ্গিতে জিঘাংসার তৃপ্তি জাহির করলেন।
অথচ, সাকিব সিপিএল খেলার অনাপত্তি পত্র (এনওসি) যোগার করতে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান আকরাম খানের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি সাকিবকে বলেছিলেন বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করতে।
নিজামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাকিবকে ফের আকরাম খানের সাথেই যোগাযোগ করতে বলেন। এ দফার যোগাযোগে আকরাম তাকে সিপিএলে খেলতে সমস্যা নেই জানিয়ে মৌখিক অনুমতি দিলেন এবং বললেন দেশে ফিরলে এনওসি সাইন করে দেবেন।
কিন্তু আকরাম খানের আশ্বাসে অনাপত্তি ছাড়াই সিপিএল খেলতে যাওয়াই যে ফাঁদে পা দেয়া তা টেরও পাননি সাকিব।
তাই গত বুধবার স্ত্রীকে নিয়ে সাকিব দেশ ছাড়ার পরপরই কলকাঠিগুলো নড়েচড়ে ওঠে। সিপিএল খেলতে বারবাডোজ যাওয়ার পথে লন্ডনে অবস্থান কালেই তাকে যত তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিতে বলে দেয় বিসিবি।
বিসিবির নোটিশ পেয়ে গত রোববার দেশে ফিরে আসেন সাকিব। কিন্তু এর মধ্যেই নয়া কোচ চন্দ্রিকা হাথরুসিংয়ের বরাত দিয়ে দেশের পক্ষে সাকিবের ক্রিকেট না খেলার হুমকিসহ নানা অভিযোগের জোরালো প্রচারণা হয়ে গেছে।
তাই দেশে ফিরে সাকিব দেশের হয়ে আরো দশ বছর ক্রিকেট খেলতে চাওয়ার কথা বলেও তার দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে পারলেন না। বরং ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে বসাতে তার সব অর্জনই এক ঘষাতেই মুছে দেয়া হল।
যেকোনো মূল্যে শাস্তি দেয়া যখন ক্রিকেট অঙ্গনে আসা ক্ষমতাবান অখেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য হয়ে যায় তখন একজন ক্রিকেটারের নিষিদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
উপায় সাকিবেরও থাকল না।
কিন্তু ঘটনার মূলে যখন উম্মে আহমেদ শিশির নামক একজন নারীর ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়া, তখন প্রশ্নটি আসলে বাংলাদেশের নারীর নিরাপত্তার সংক্রান্ত।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যখন স্ত্রীকে নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতে গিয়ে শাস্তির মুখোমুখি হয়ে যান তখন সাধারণ মানুষ কিভাবে স্ত্রী-বোন-বান্ধবীদের অভিজাত বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করবেন?
http://onlinebangla....-07-08-19-30-00
1.Akram Khan should take a stand and threaten resignation if punishment to Shakib is not withdrawn.
2. Popon is unfit for this job. He should go. Media should boycott him.
3. Shakib's wife is a US Green Card holder on way to getting US citizenship. If further pressed Shakib will go, and BD cricket will be the looser.